
এলপিজি আমদানি সংক্রান্ত একটি চুক্তিকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে দাবি করা হচ্ছে, চুক্তিটির ফলে রাষ্ট্রকে প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।
দাবি অনুযায়ী, এই হিসাবে বছরে সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৮ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা। বিষয়টি সামনে আসার পর বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, এই পরিমাণ অর্থ দেশের বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলোর ব্যয়ের সঙ্গে তুলনীয়। তাদের দাবি, জ্বালানি খাতে যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, চুক্তির সমর্থকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনায় না নিয়ে শুধুমাত্র আর্থিক হিসাবের ভিত্তিতে চুক্তির মূল্যায়ন করা যথাযথ হবে না।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ বা চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে আলোচনায় থাকা আর্থিক হিসাব ও দাবিগুলোর স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।
জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য চুক্তির শর্তাবলি, আমদানি ব্যয়, মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি এবং সরকারি তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা প্রয়োজন। এতে চুক্তির বাস্তব অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে জনগণ স্পষ্ট ধারণা পেতে পারবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।